আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

প্রথম আকাশে ওড়েন মুসলমান বিজ্ঞানী আব্বাস ইবনে ফিরনাস

0 comments
মানুষ যেদিন থেকে হাঁটতে শেখে ঠিক সেদিন থেকেই তার উড়ে বেড়াবার স্বপ্ন। মানুষের আকাশে উড়া নিয়ে ইতিহাসে অনেক ঘটনা আছে, আছে রূপকথার ছড়াছড়ি । আইকারাসের কথা বলা হয়, যিনি নাকি সূর্যের কাছাকাছি উড়তে থাকেন, কিন্তু তার দেহে লাগানো মোম গলে গিয়ে সেই যে নিম্মমুখে ধাবিত হন, যার পরিণতি নাকি ছিল সলিল সমাধি! ৫ম খ্রীস্টপুর্বের এক চীনা ব্যক্তির কথা ইতিহাসে আছে, যিনি আকাশে ঘুড়ি উড়ানোর সফল প্রয়াস গ্রহন করেছিলেন, কিন্তু মানুষ হিসেবে প্রথম আকাশে উড়ার ইতিহাসসৃষ্টিকারী ব্যক্তি হচ্ছেন স্পেনের কর্ডোভার একজন মুসলমান ব্যক্তি, যার নাম আব্বাস ইবনে ফিরনাস। তিনি ইজন-রান্ড ওন্ডা আল-আন্দালুস ( যা বর্তমানের স্পেনের রোন্ডা) তে জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তিনি বাস করতেন কর্ডোভাতে, যেটি ছিল তৎকালীন মুসলমানদের জ্ঞান চর্চার পীঠস্থান। তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক মহতী ব্যক্তি ছিলেন- একাধারে তিনি ছিলেন আবিষ্কারক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, আরবী কবি।
প্রচলিত উপাখ্যান থেকে জানা যায় ইবনে ফিরনাস ৮৫২ সালে আরমেন ফিরম্যানের চিন্তাধারায় প্রভাবিত হন। আরমেন ফিরম্যান বিজ্ঞানী না হয়েও প্রকৃতিকে নিকট থেকে পর্যবেক্ষণ করে কাঠকে ব্যবহার করে রড আকৃতির আড় দিয়ে উপরে রেশমকাপড় জড়িয়ে একটি উড্ড্য়ন যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এই যন্ত্র নিয়ে আরমেন ফিরম্যান কর্ডোভার মসজিদের মিনারে উঠে যন্ত্রসংযোজিত হয়ে লাফ দেন। তিনি উড়তে পারেননি, নিচে পড়তে থাকেন, কিন্তু সিল্ক বস্ত্রটি ফুলে ফেপে উঠায় তার অবতরনের গতি কমে যায়, ফলে তিনি সামান্য আঘাত প্রাপ্ত হলেও মৃত্যুবরণ করেননি। এটিই সম্ভবত পৃথিবীর প্রথম প্যারাসুট নিয়ে লাফ দেওয়া।
ইবনে ফিরনাস তখন ভিড়ের মধ্যে এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করছিলেন এবং এই ফলাফলে মুগ্ধ হয়েছিলেন। যদিও এই প্রয়াস ছিল অনেকটা স্থুলবুদ্ধিজাত এবং ঠিক নিখাদ বিজ্ঞানসম্মত নয়, কিন্তু এটি ছিল ধারণার একটি রত্ন, যা নিয়ে পরবর্তীতে আরও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই ধারণা থেকেই ইবনে ফিরনাস এর মধ্যে উড্ডয়ণ এর কৌশলটি আরও পোক্ত হতে থাকে। আরমেন ফিরনাসের প্রয়াসের ২৩ বছর পর ৮৭৫ খ্রীস্টাব্দে, ইবনে ফিরনাস প্রকৃতির উপর গভীর অধ্যায়ন করে নিজস্ব ডিজাইনের একটি উড্ডয়ন যন্ত্র আবিষ্কার করেন, তিনি এক জোড়া কাঠ আর রেশম কাপড় নিয়ে সেগুলো সুই সুতা দিয়ে সেলাই করে পাখা তৈরী করেন। পরে তিনি জাবাল আল-আরস পর্বতের শৃঙ্গ থেকে ঝাঁপ দেন এবং বেশ কিছু সময় উড়তে থাকেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ননা মতে তিনি ১০ মিনিট উড়তে পেরেছিলেন। ইবনে ফারনিস উড্ডয়নের কৌশলের দিকেই বেশি মনোযোগ নিবদ্ধ করেন, কিন্তু অবরনের কৌশলের দিকে তার মনোযোগ ছিল না। তিনি পৃথিবীর দিকে অবতরণ করতে থাকলেও গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি এবং প্রবল গতিতে নামতে গিয়ে ভ’পৃষ্ঠের সাথে প্রবলভাবে আঘাত প্রাপ্ত হন। এই ঘটনার পরও ইবনে ফিরনাস আরও ১২ বছর জীবিত ছিলেন। সেই সময়ে তার নকশায় ঠিক কী ভুল হয়েছিল তা সনাক্তকরণে তিনি মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তার নকশায় অবতরণের সময় গতি কমানোর কোন যান্ত্রিক পদ্ধতি সংযুক্ত ছিল না। একটি পাখি লেজ এবং ডানাগুলোকে সমন্বিতভাবে কার্যক্ষম রাখে, ফলে এটি ভূমি স্পর্শ করার আগে আকাশে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে থাকে। ইবনে ফিরনাস উপলব্ধি করলেন যে, তিনি তার উড্ডয়ন যন্ত্রে কোন লেজ রাখেননি।
ইবনে ফিরনাস তার জীবদ্দশায় আর আকাশ ভ্রমন করতে পারেননি। তবে এই ঘটনার কয়েক শতক পর ১৬৩০ – ১৬৩২ সালের দিকে এক অটোম্যান তুর্ক আকাশে উড়ার আরেকটি চেষ্টা নেন এবং বসফরাস এর উপর দিয়ে উড়তে থাকেন।
যাহোক ইবনে ফিরনাস কেবল আকাশে উড়ার স্বপ্নই দেখেননি এবং তা রুপায়নে সচেষ্ট হননি, তিনি ঘূর্ণনক্ষম গ্রহ নিয়ে যান্ত্রিক প্লানেটেরিয়ামও তৈরী করেন। এর বাইরে তিনি যান্ত্রিক বস্তু, সময় যন্ত্র নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। রতœ, স্ফটিক নিয়েও তার কৌতুহল ছিল, বালি গলিয়ে আন্দালুসিয়ার বিশেষ পানীয় গ্লাস তিনি উপহার দেন। গ্লাস থেকে ম্যাগনিয়াইং গ্লাস ও লেন্স নিয়েও তিনি তার পরীক্ষা ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
Working Group for Planetary System Nomenclature (IAU/WGPSN) ১৯৭৬ সালে ইবনে ফিরনাসের অসামান্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ চন্দ্রের একটি ক্রেট বা গর্তের নামকরণ করে ইবনে ফারনেস।
উপসংহারে এই কথা বলা যায়, আধুনিক বিমান যুগে যখন মানুষ দুর থেকে দুরান্তে যাচ্ছ, তখন বলতে হয় ইবনে ফিরনাসের ক্ষুদ্র প্রয়াসের একটি ধারবাহকিতার ফলেই তা সম্ভব হচ্ছে।
সহস্র বছর আগের সেই মহতী মানুষকে আজ উচিত সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করা।
অনুবাদঃ মুহাম্মদ শামীম আখতার
Read more...

নাস্তিক শিক্ষক বনাম আস্তিক ছাত্র

0 comments
নাস্তিক প্রফেসর ক্লাসে ঢুকেই তার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, "পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কি সৃষ্টিকর্তা তৈরি করেছেন?"
একজন ছাত্র বেশ আত্নবিশ্বাসের সাথেই উত্তর দিলো, জ্বী স্যার। সবকিছুই সৃষ্টিকর্তা তৈরি করেছেন।
"তাই নাকি! ছাত্র টির উত্তর শুনে মুচকি হাসেন প্রফেসর। সৃষ্টিকর্তা সত্যিই সবকিছু তৈরি করেছেন? তুমি ভেবে বলছো?"
ছাত্রটি আগের মত আত্নবিশ্বাসের সাথে "হ্যা" বোধক উত্তর দিতেই প্রফেসর আবারও প্রশ্ন করেন, "সৃষ্টিকর্তাই যদি সবকিছু তৈরি করে থাকেন তাহলে উনি তো খারাপ কেও সৃষ্টি করেছেন। তোমার উত্তর অনুযায়ী যেহেতু খারাপের অস্তিত্ব আছে এবং আমরা কি সেটা আমাদের কাজের উপর নির্ভর করেই নির্ধারণ হয়, সেই যুক্তি অনুযায়ী তাহলে সৃষ্টিকর্তা নিজেই খারাপ। কারন আমাদের ভাল-মন্দ সব গুণ উনি তৈরি করেছেন।"
প্রফেসরের এমন কথা শুনে সব ছাত্র চুপ হয়ে গেলো। কেউ কিছু বলছেনা।
ছাত্রদের চুপ হয়ে যাওয়া দেখে প্রফেসর নিজের উপর বেশ সন্তুষ্ট হলেন।
কিছুক্ষণ পর আরেকজন ছাত্র উঠে দাড়ালো। প্রফেসর আমুদে ভঙ্গীতে জিজ্ঞাসা করেন, কিছু বলতে চাও? ছাত্র টি হাসি মুখে প্রফেসরের কাছে জানতে চায়, "আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি স্যার?"
অবশ্যই করতে পারো। প্রফেসর অনুমতি দিতেই ছাত্র টি জিজ্ঞাসা করে- "স্যার, ঠান্ডা বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব আছে কি?"???
প্রশ্ন শুনে প্রফেসরের চেহারায় বিরক্তি ফুটে ওঠে। "কি গাধার মত প্রশ্ন করো! ঠান্ডার অস্তিত্ব থাকবেনা কেন? অবশ্যই ঠান্ডার অস্তিত্ব আছে। তোমার কি কখনো ঠান্ডা লাগেনি?"
এবার ছাত্র টি মুচকি হেসে উত্তর দেয়, সত্যি বলতে কি স্যার, ঠান্ডার কোনো অস্তিত্ব নেই। আমরা যেটাকে ঠান্ডা বলি, পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষায় সেটা আসলে তাপের অনুপস্থিতি। আমরা এই "ঠান্ডা' শব্দ টিকে জাস্ট কম তাপ কিংবা তাপের অনুপস্থিতি কে ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যবহার করি।
কিছুক্ষণ পর ছাত্র টি আবারো প্রশ্ন করে, "স্যার অন্ধকার বলে কিছু কি পৃথিবীতে আছে?"
প্রফেসর উত্তর দেন, কেন থাকবেনা! অবশ্যই অন্ধকারের অস্তিত্ব আছে।
ছাত্র টি সহাস্যে উত্তর দেয়, আপনার ধারণা ভুল স্যার। অন্ধকার বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। আমরা আলো কে নিয়ে রিসার্চ করতে পারি, আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ মাপতে পারি, আলোর গতি বের করতে পারি। কিন্তু অন্ধকারের অস্তিত্ব নেই বলেই আমরা অন্ধকার নিয়ে কোনো কিছুই করতে পারিনা। সামান্য একটা আলোক রশ্নি অন্ধকার দূর করতে যথেষ্ঠ, কিন্তু অন্ধকার কখনো আলো কে গ্রাস করতে পারেনা। কারন অন্ধকার বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই, অন্ধকার হচ্ছে আলোর অনুপস্থিতি।
ছাত্র টি আবারও প্রশ্ন করে বসে। "স্যার, এবার বলেন খারাপের কি অস্তিত্ব আছে?"
প্রফেসর বেশ ক্রুদ্ধস্বরে উত্তর দেন, অবশ্যই আছে। প্রতিদিন কত মানুষ খুন হচ্ছে, অন্যায় হচ্ছে, এগুলো খারাপ না?"
ছাত্র টি বেশ জোরের সাথে উত্তর দেয়, "না স্যার। খারাপের কোনো অস্তিত্ব নেই, এটা হচ্ছে ভালোর অনুপস্থিতি। এটা সেই ঠান্ডা এবং অন্ধকারের মতই, মানুষের অন্তরে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালবাসার অনুপস্থিতিই এই খারাপ বা মন্দের অবস্থা তৈরি করে।

<<Collected POST>>
Read more...

জীবনের হিসাব-নিকাশে মুহাম্মাদ আলী

0 comments
জনপ্রিয় কিংবদন্তি বক্সিং খেলোয়াড় এবং খেলাধুলার জগতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হেভিওয়েট বিবেচিত মোহাম্মদ আলী আজ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। জীবনের হিসেব-নিকেশ, জীবন এবং মৃত্যুর প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে স্বচ্ছ চিন্তার দেখা মেলে তাঁর বক্তব্যে। মৃত্যু পরবর্তী জীবনে জান্নাতের নিয়ামাহ এবং পুরষ্কার লাভের তীব্র আকাঙ্ক্ষা সত্যিই ঈর্ষনীয়।
আল্লাহ তাঁর গুনাহগুলোকে তুষার-শীতল পানি দ্বরা ধৌত করে দিন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের মেহমান করে নিন।

আলোচনা টির সম্পূর্ণ বঙ্গানুবাদ।

--মোহাম্মদ, আমি জানতে চাই, বক্সিং থেকে অবসর নেওয়ার পর আপনি কি করবেন?
(ঘুমানোর অভিনয় করছেন) ........আমি চেষ্টা করছি তাকে জাগিয়ে তোলার।

-- আমি ঘুমাবো, শুধুই ঘুমাবো। যখন আমি বক্সিং থেকে অবসরে যাবো, আমি আসলে জানি না, আমি এখানে আপনাদেরকে কিছু কথা বলতে চাই। এটা হয়তো আপনাদের চিন্তার খোরাক হতে পারে। জীবন আসলে তেমন বড় নয়। ৩০ বছরের একজন সাধারণ মানুষের কথাই ধরুন। আপনার বয়স যদি এখন ৩০ বছর হয়, তাহলে আসলে আপনার বয়স ৭ বছর। দেখুন আমি কিভাবে এটা প্রমাণ করি। ৩০ বছরের সাপেক্ষে আপনার প্রতিদিনের ৭/৮/৯ ঘন্টা ঘুমকে হিসাব করুন । গত রাতে আপনি বিছানায় গিয়েছেন এরপর সকালে ঘুম থেকে জেগেছেন। মাঝখানের কিছু আপনার মনে নেই। আপনি অচেতন ছিলেন প্রায় ৮ বছর, যদি আপনার বয়স হয় ৩০ বছর, আপনি ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন ৮ বছর। এই ৩০ বছরে কি পরিমাণ ভ্রমণ আপনি করেছেন ? টেলিভিশন স্টেশন থেকে বাসায় অথবা অন্য কোন দেশে, অন্য কোন শহরে, অথবা স্কুলে, চার্চে। সম্ভবত আপনার জীবনের ২ বছর কেটেছে ভ্রমণ করে, গন্তব্যস্থলে আসা-যাওয়া করে। সুতরাং ৮ বছর ঘুমানো, ২ বছর ভ্রমণ। এরপর আছে আপনার জীবনে এই অধ্যায় যখন আপনি কিছু অর্জন করতে চান। কতসময় আপনি স্কুলে বসে কাটিয়ে দিয়েছেন ? আমেরিকাতে আমরা স্কুল করি ক্লাস ওয়ান থেকে দ্বাদশ ক্লাস পর্যন্ত। এখানেও কি একই নিয়ম ? হ্যাঁ, মোটামুটি একই। দিনে ৬ ঘন্টা ? হ্যাঁ। দিনে ৬ ঘন্টা করে ১২ বছর। হিসাব করে দেখুন, আপনি অন্য কোথাও যাওয়া ছাড়া, ক্লাশরুমে বসে কাটিয়ে দিয়েছেন ৩ বছর। ২ বছর ভ্রমণে, ৮ বছর ঘুমিয়ে, ৩ বছর স্কুল করে। কত মুভি আপনি দেখেছেন, কতগুলো রেসলিং খেলা, কত পরিমাণ বিনোদন, কতগুলো সিনেমা হল, বেইসবল খেলা ? সম্ভবত ২ বছর বিনোদন। সুতরাং, যেই সময়ের মধ্যে আপনার সন্তান হয়, - খেয়াল করুন আমি কি বলছি - যেই সময়ের মধ্যে আপনি আপনার সন্তানের জন্য নির্ভরযোগ্য কোন ব্যবস্থা করেন, যেই সময়ের মধ্যে আপনি আপনার বাসস্থানের জন্য খরচ পরিশোধ করেন, ততদিনে আপনার বয়স ৬০ বছর। সুতরাং, জীবন আসলেই অনেক ছোট।

আপনি যদি আপনার সকল ভ্রমণ, ঘুম, স্কুল, বিনোদন যোগ করেন, সম্ভবত জীবনের অধর্েক সময় আপনি কিছু না করেই কাটিয়ে দিয়েছেন। এখন আমার বয়স ৩৫ বছর। আরও ৩০ বছর পরে আমার বয়স হবে ৬৫। ঐ বয়সে আমাদের আর কোন প্রভাব থাকে না, আমরা ৬৫ বছর বয়সে তেমন কিছুই করতে পারি না। আপনার স্ত্রীও আর ভালোবাসবে না। সুতরাং আমি যা বলতে চাই, আপনার বয়স যদি ৬৫ বছর হবে, আপনাকে আরও অনেক কিছু করতে হবে। আপনারা জানেন, ৩০ বছর পরে আমার বয়স হবে ৬৫। এই ৩০ বছর বয়সে আমাকে ৯ বছর ঘুমাতে হবে। আমি ৩০ বছর শুধুমাত্র দিন পাবো না। আমাকে ভ্রমণ করতে হবে। সম্ভবত পরবর্তী ৩০ বছরের মধ্যে আমাকে ৪ বছর কাটাতে হবে ভ্রমণ করে। ৯ বছর ঘুমিয়ে, টেলেভিশন, বিনোদন ইত্যাদির জন্য ৩ বছর। আমার ছিল ৩০ বছর, এর মধ্যে সম্ভবত আমি ১৬ বছর পাবো গঠণমূলক কিছু করার জন্য। সুতরাং এভাবে আমাদের প্রত্যেকের জীবনই ভেঙ্গে হিসেব করা যায়।

আমি আমার পরবর্তী ১৬ বছরে কি করবো ? সর্বোত্তম কোন কাজটি আমার করা উচিৎ ? সৃষ্টিকর্তার সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। রিয়াল স্টেইটের মালিক হওয়া, ব্যাবসা করা, বক্সিং শিখানো— এগুলো আমাকে জান্নাত দিবে না। কতজন এখানে বিশ্বাস করেন যে একজন সর্বশ্রেষ্ঠ সত্তা আছেন, একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন ? কতজন বিশ্বাস করেন যে, কোন এক শক্তি আছে যা সৃষ্টি করেছে চাঁদ, সূর্য, তারা ? কতজন বিশ্বাস করেন যে, এই জিনিসগুলো এমনি এমনিই তৈরী হয় নি, কেউ একজন এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন ? কতজন বিশ্বাস করেন যে একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন ? কতজন বিশ্বাস করেন যে কোন সৃষ্টিকর্তা নেই ? আমি যদি আপনাদের বলি যারা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেন না, এই গ্লাস নিজে থেকেই অস্তিত্ব লাভ করেছে, এই গ্লাস নিজেকেই নিজে তৈরী করেছে, কোন মানুষ এই গ্লাস তৈরী করেনি, আপনি কি এটা বিশ্বাস করবেন ? আপনি কি এটা বিশ্বাস করবেন যে এটা নিজেকে নিজে তৈরী করেছে ? না। আমি যদি বলি আপনারা বিশ্বাস করবেন না, ঠিক? আমি বলছি সে বিশ্বাস করবে না। আমি যদি বলি যে, এই টেলিভিশন স্টেশন এমনি এমনিই অস্তিত্ব লাভ করেছে, কোন মানুষ এটাকে তৈরী করেনি, আপনারা বলবেন মোহাম্মাদ আলীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ঠিক আছে, যদি এই গ্লাস এটাকে তৈরী করতে না পারে, যদি আমি আপনাকে বলি, আপনি যে পোশাক পরিধান করে আছেন, তা নিজেই নিজেকে তৈরী করেছে, আপনি মোটেই বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু আপনার পোশাক যদি নিজেকে তৈরী করতে না পারে, যদি এই গ্লাস নিজেকে তৈরী করতে না পারে, যদি এই বিল্ডিং নিজেকে তৈরী করতে না পারে, তাহলে কিভাবে চাঁদ তৈরী হলো ? কিভাবে নক্ষত্রপুঞ্জ, জুপিটার, নেপচুন, মঙ্গলগ্রহ, সূর্য, কিভাবে এই প্রকৃতি, কিভাবে এতসব কিছু আসলো ? যদি না কোন মহাজ্ঞানী সত্তা পরিকল্পনা করে এটা বানিয়েছেন। সুতরাং, আমি যা বলছি তা হলো, আমি বিশ্বাস করি যে আমরা বিচারের সম্মুখীন হবো। এত ইহুদি হত্যা করার পরেও হিটলারের মতো মানুষের কি পার পেয়ে যাওয়া যুক্তিসঙ্গত ? তাকে শাস্তি দেয়ার জন্য আবশ্যই কেউ থাকার কথা। এখানে সেই শাস্তি ভোগ না করলেও মৃত্যুর পরে সে এটা ভোগ করবে। শাস্তি হবে চিরকালীন। সুতরাং, আমি যা করবো যখন আমি অবসরে যাবো, তা হচ্ছে নিজেকে তৈরী করা সৃষ্টিকর্তার সাথে সাক্ষাতের জন্য। কারণ, আমার প্লেন দুর্ঘটনায় পড়তে পারে। এখানে কি বিমান বিস্ফোরণ হয় না ? মানুষ কি প্রতি দিনই মারা যাচ্ছে না ?

এটা চিন্তা করা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর যে, আমি জাহান্নামে যাবো চিরকালের জন্য, আগুনে দগ্ধ হওয়া অনন্তকালের জন্য ! সুতরাং আমি যা করবো,(আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, আমি জবাব দিচ্ছি) আমি যখন অবসর নিবো, আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করবো মানুষকে সাহায্য করার জন্য। এই জন্যই আমি এখানে(ইংল্যান্ড) জনি ওয়াকার এর সাথে। একজন দরিদ্র মানুষ এসেছে, এখানে কতিপয় তরুণ যাদের অর্থের প্রয়োজন। আর কেউ আমাকে আহ্বান করছে তাদেরকে সাহায্য করার জন্য। সৃষ্টিকর্তা আমাকে দেখছেন। সৃষ্টিকর্তা আমার প্রশংসা এজন্য করেন না যে আমি জো ফ্রেইযারকে (আরেকজন বিখ্যাত বক্সার) হারিয়েছি। তাকে হারানোতে আল্লাহ কিছু দিবেন না। আমরা যতদূর জানি, ইংল্যান্ড বা আমেরিকাকে আল্লাহ গুরুত্ব দেন না। কারণ সবকিছুই তাঁর। তিনি দেখতে চান আমরা একে অপরের সাথে কেমন ব্যবহার করি, কিভাবে আমরা একে অপরকে সাহায্য করি। তাই, আমি আমার জীবনকে উৎসর্গ করতে চাই, আমার নাম এবং সুনামকে ব্যবহার করে দানশীলতায় সহায়তা করার জন্য, মানুষকে সহায়তা করার জন্য, মানুষের মাঝে ঐক্য ও সংহতি তৈরীর জন্য। মানুষ একে অপরকে বোমা মারছে ভুল ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে। পৃথিবীতে আমাদের এমন কাউকে দরকার শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। তাই, আমি যদি মারা যাই, আর যদি জান্নাত থাকে, আমি তা দেখতে চাই। কারণ, আমরা কয় দিনইবা বঁাচি, ৮০ বছর ? এই রুমের প্রত্যেকেই, আপনাদের মধ্যে কেউ মারা যাবে ২০ বছর পরে, কেউ মারা যাকে ৫০ বছর পরে, কেউ মারা যাবে ৩০, ৬০ অথবা ৭০ বছর পরে। আমরা সবাই খুব শীঘ্রই মারা যাবো। আর, ধরে নিলাম, যদি আপনি বঁাচেন ১২৫ বছর, যা আসলে আমাদের পক্ষে সম্ভব না, তাই না ? ধরুন, আমরা বাচিঁ ২৫০ বছর, আর আপনি এর মধ্যে ইন্দ্রীয় সুখ উপভোগ করেছেন ১৪৫ বছর, এর পরেও সেই জীবনের অবসান হবে। সুতরাং, আমাদের এই পৃথিবীতে ৮০ বছরের মতো সময়ও নেই। এটা একটা পরীক্ষা তা দেখার জন্য যে কোথায় আমাদের পরিণতী হবে জান্নাত নাকি জাহান্নাম। এটাই প্রকৃত জীবন নয়। আপনার আসল সত্তা হলো আপনার ভিতরে, আপনার দেহ বৃদ্ধ হয়ে যায়। একসময় আপনি দেখবেন আপনার দঁাত নেই, আপনার চুল পড়ে যাচ্ছে, দেহ অবসন্ন হয়ে আসছে। কিন্তু আপনার আত্মা কখনো মরে না। এটা চিরকাল জীবিত থাকবে। সুতরাং আপনার দেহ শুধুমাত্র আপনার আত্মাকে বহন করছে।

সুতরাং, সৃষ্টিকর্তা আমাদের পরীক্ষা করছেন এটা দেখার জন্য যে, কিভাবে আমরা অন্যের সাথে আচরণ করি, জান্নাতে আমাদের প্রকৃত বাসস্থানের অধিকারী হতে পারি। সুতরাং, এই বস্তুগত উপকরণাদি বেশিদিন টিকে না। এই বিল্ডিং টিকে থাকা অবস্থাতেই এর নির্মাতা মানুষটি মারা যাবে। ইংল্যান্ডে আনেক রাজা-রাণী ছিলেন, তারা সবাই মারা গেছেন। একজনের পরে আরেকজন আসবে। সুতরাং, আমরা এখানে চিরকাল অবস্থান করবো না। আমরা শুধুমাত্র সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক, আমরা কোন কিছুর অধিকারী নই। এমনকি আপনার সন্তানরাও আপনার নয়। আপনি মনে করছেন আমি মিথ্যা বলছি ? আপনার স্ত্রী আসলে আপনার নয়। আপনি মারা যান আর এরপর একবছর পরে ফিরে এসে আপনার বেডরুমে ঘুমাতে যান আর দেখুন আপনার স্ত্রী কি আপনার থাকে কিনা। আপনি আপনার স্ত্রীর অধিকারী নন। আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি, হয়তো আপনারা এ ব্যাপারে পড়েছেন। আমার চার সন্তান এখন অন্য আরেকজনকে বাবা ডাকে। তারা এখন আর আমাকে দেখে না। আপনি আপনার সন্তানদের অধিকারী নন। আপনি আপনার পরিবারের অধিকারী নন। তাই, আমি যা বলছি, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূণর্ বিষয় হলো, কি ঘটবে আপনি যখন মারা যাবেন, আপনি কি জান্নাতে যাবেন নাকি জাহান্নামে। আর এটা হবে অনন্তকালের।

অনন্তকাল কি পরিমাণ সময় ? উদাহরণ হিসেবে সাহারা মরুভূমিকে নিতে পারেন। সাহারা মরুভূমিতে অনেক বালি তাই না ? ধরুন, একটা বালির কণা হলো ১০০০ হাজার বছরের প্রতীক। আর যখন আপনি জাহান্নামে দগ্ধ হবেন, তা হবে চিরকালেন জন্য, চিরকাল এবং চিরকাল, কোন শেষ নেই। কত লম্বা সময় তা ? আপনাদেরকে একটা ধারণা দেই অনন্তকাল কত লম্বা। আমি আপনাদেরকে বলেছি সাহার মরুভূমির থেকে প্রতি ১০০০ বছরে একটা করে বালির কণা নিতে থাকুন যতক্ষণ না মরুভূমি খালি হয়ে যায়। ঠিক আছে, অপেক্ষা করুন ১০০০ বছর, তারপর একটি বালির কণা তুলে নিন। পরবর্তী কণা নেওয়ার আগে আরও ১০০০ বছর অপেক্ষা করুন। কণা তুলতে থাকুন যতক্ষণ না মরুভূমিতে আর কোন বালি না থাকে। আপনি জানেন এটা কত লম্বা সময় ? আমেরিকার বয়স ২০০ বছরও না। ১০০০ বছর পূর্ণ করতে আমাদেরকে আরও ৮০০ বছর পার করতে হবে। সুতরাং, এই চিন্তা আমাকে আতঙ্কিত করে যে, আমি একদিন মারা যাবো আর এরপর জাহান্নামে যাবো। আমি এরোপ্লেনে আছি আর এটা যেকোন সময় বিস্ফোরিত হতে পারে, আমি সবসময় ভ্রমণ করছি। সৃষ্টিকর্তা আমার বিচার করবেন। আমি মানুষ হত্যা করতে পারি, আমি ডাকাতি করতে পারি। প্রশাসন আমাকে নাও ধরতে পারে, এফ. বি. আই. স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডও হয়তো আমাকে নাও ধরতে পারে। কিন্তু যখন আমি মারা যাবো, কেউ একজন আমাকে দেখছেন এবং হিসাব রাখছেন আর আমি তা থেকে পালাতে পারবো / রেহাই পেতে পারবো না। আর আমি আগুনে দগ্ধ হতে চাই না চিরকাল, চিরকাল এবং চিরকালের জন্য, আমি জান্নাতে যাবো। তাই, আমি বক্সিং থেকে অবসরের পরে যা করবো, পরবর্তী ১৬ বছরের গঠনমূলক সময়ে আমি নিজেকে তৈরী করবো যাতে সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য পেতে পারি এবং সর্বোত্তম স্থানে যেতে পারি। এটা কি যুক্তিসঙ্গত মনে হয় ?
Read more...
 
Copyright © 2012 Sajibs.Com | Developed by SAJIB
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...