আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

বাউলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

0 comments
বাউল একটি ধর্মীয় দর্শন থেকে সৃষ্ট আত্ম চিন্তার রুপভেদ। যা মুলতঃ আত্মার অধ্যাত্ম চেতনার বহিপ্রকাশ। বাংলাদেশের সাহিত্য ও লোকঐতিহ্য, লালন শাহ বিবেচনা-পূর্নবিবেচনা প্রভৃতি গ্রন্থে গবেষকগণ লিখেছেন, আরবের রাজ শক্তির প্রতিঘাতে জন্ম হয়েছে সুফি মতবাদের । এটিকে লালন-পালন করেছে পারস্য। বিকাশ ইরান ও মধ্য এশিয়ায়। পরবর্তিতে যতই পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে এর মধ্যে ততই পূর্বদেশীয় ভাবধারার সম্মিলন ঘটতে থাকে। দহ্মিণ এশিয়ায় এসে অধ্যাত্ম সঙ্গীত চর্যাগীতিতে রুপান্তর হয়। অতপর তুর্কী বিজয়ের মধ্যদিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সূফী-দরবেশ গণের আগমনে বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্যাগণের আদর্শ মানবতাবাদ, সুফীবাদে সম্মিলিত হয়ে ভাবসঙ্গীতে রুপান্তর হয় । ফলে সুফী দর্শন অতি সহজে বৌদ্ধের কাছের প্রশংসনীয় হয় । কাজেই একদিকে সূফীবাদ এবং অন্যদিকে বৌদ্ধ সাধনা এই সকলের সমম্বয়ে গড়ে উঠে মরমী ভাব-সাধনা [][][]গবেষক সৈয়দ মোস্তফা কামাল, ডঃ আশরাফ সিদ্দিকী সহ অনেকে এ অভিমত পোষন করেন; মধ্যযুগের প্রারম্ভে বাংলার শ্যামল জমিনে অদৈত্ববাদের মধ্যদিয়ে ভারতে চৈতন্যবাদ বিকশিত হয় পঞ্চদশ শতাব্দিতে। তখন ভাগবতধর্ম, আদি রামধর্ম ও কৃষ্ণধর্মের মিলনে বৈঞ্চবধর্ম আত্মপ্রকাশ করে। এতে করে বৈঞ্চবী সাধন পদ্ধতির মধ্যে অনিবার্য রূপে শামিল হয় প্রাচীন মরমীবাদ । ফলে পূর্বরাগ, অনুরাগ, বংশী, বিরহ, দেহকাঁচা ও সোয়া-ময়না সম্মেলিত ইত্যাদি মরমী সাহিত্যের শব্দ, নামে উপনামে বৈঞ্চববাদে বা বৈঞ্চব সাহিত্যে সরাসরি ধার করা হয় । এ ভাবে মরমীবাদের হূদয়স্পর্সী শব্দমালায় রচিত সঙ্গীত বাউল সঙ্গীত নামে আত্মপ্রকাশ করে এক নতুন সম্প্রদায়ের জন্ম দেয়, যা আজকাল বাউল নামে অভিহিত []'বাহুল' বা 'ব্যাকুল' থেকে 'বাউল' নিষ্পন্ন হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। আবার আরবি 'আউল' বা হিন্দি 'বাউর' থেকেও শব্দটি আসতে পারে। যেভাবে যে অর্থই আভিধানিক হোক না কেন, মূলত এর ভাব অর্থ হলো, স্রষ্টা প্রেমিক, স্বাধীন চিত্ত, জাতি সম্প্রদায়ের চিহ্নহীন এক দল সত্য সাধক, ভবঘুরে[]বাউলদের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হচ্ছে বাউল সঙ্গীত নামে পরিচিত আধ্যাত্মচেতনার গান । এ বিষয়ে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ বলেছেন : ইদানিং বাউল শব্দের উৎপত্তি নিয়ে নানা বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বা একে সংস্কৃত বতুল' (উন্মাদ, পাগল, ক্ষেপা, ছন্নছাড়া, উদাসী) শব্দের অপভ্রংশ বলে মনে করেন । তবে যা থেকেই বাউল শব্দের উৎপত্তি হোক না কেন, বর্তমানে বাউল মতবাদ একটি বিশেষ মতবাদে পরিণত হয়েছে। []
বাউল ও বাউলা মতবাদের উৎপত্তিকাল আনুমানিক ১৬৫০ খৃস্টাব্দ। বাংলার বাউল ও বাউল গান' গ্রন্থে প্রফেসর উপেন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য এ অভিমত পোষণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করেন, বৌদ্ধদের মহাযান পন্থী থেকে বাউলদের উদ্ভব।[১]বাউলদের রয়েছে নানাবিধ শাখা-প্রশাখা । আনুমানিক ১৪৫০ খ্রিস্টাবেদ হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামে জগমোহন গোসাঈর জন্ম হয়। তার পিতার নাম সুরানন্দ, মাতার নাম কমলা। তিনি জগন্মোহিনী বাউল সম্প্রদায়ের প্রবর্তক। তাকে আদি বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক হিসেবেও গণ্য করা হয়। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মাছুলিয়া গ্রামে তার আখড়া বিদ্যমান। জগন্মোহিনী সম্প্রদায়ের জপতপের মূলমন্ত্র গুরু সত্য'জগমোহন গোসাইর এক প্রশিষ্যের নাম রামকৃষ্ণ গোসাঈ। বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গলে তার প্রধান আখড়া রয়েছে। এ আখড়ার অধীনে প্রায় চারশ' ছোট বড় শাখা আখড়াও আছে। হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে এ সম্প্রদায়ের অনেক বাউল-বৈষ্ণব-বৈষ্ণবী ছিল ও আছে। রামকৃষ্ণ গোসাঈর বারো জন শিষ্যের নামে বারোটি শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার ফরিদাবাদেও এ সম্প্রদায়ের একটি বড় আখড়া আছে[৪]
বাউলদের আদি জগন্মোহিনী সম্প্রদায়ের জপতপের মূলমন্ত্র গুরু সত্য'এরা পরলোকগত গুরুর পাদুকা বা জুতাকে সযত্নে সংরক্ষণ করে ভক্তি শ্রদ্ধা করে। বিয়ে শাহীদও হয় তাদের নিজস্ব তরিকায়। এরা কোন ধরনের জাতপাতের ধার ধারে না। এদের মধ্যে ছোয়াছুইরও কোন বালাই নেই। এ সম্প্রদায়ের বাউলরা তিন ভাগে বিভক্ত। গৃহী, সংযোগী ও উদাসী। এটি বেশ প্রাচীন ধারা। তারা মনে করেন, এই এক জীবনে স্রষ্টার ভালোবাসা পাওয়া যথেষ্ঠ, তবে সে ভালোবাসা খুব সহজে পাওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য প্রচুর সাধনা করতে হবে[৪]পরবর্তীকালে (আনুমাণিকঃ ১৯ শতকের শুরু থেকে) এদের প্রভাব এক শ্রেণীর মুসলমান বাউলদের মাঝে আছর করে। ফলে বাউল কবি মুসলমান হলেও এরা ইসলামী শরীয়তের হুকুম আহকামের ধার ধারে না। এসব ফকীরের দল বিভিন্ন সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ে বিভক্ত। যথা- আউল, বাউল কর্তাভজা, সহজিয়া প্রভৃতি। এরা বিভিন্ন ধরনের বাক-ভঙ্গি ও মুখরুচক বাক্য দ্বারা সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে ।
১৯৩২ সালে, ১৯৪২ এবং ১৯৮৪ সালে বাউলদের তওবা পড়ানো হয় কিন্তু আজ অবধি তারা তাদের ভয়ঙ্কর আকীদা থেকে ফিরে আসতে পারেনাই। বাউলদর্শনের মুল ভিত্তি হচ্ছে দেহতত্ত্ব। তাদের মতে সমস্ত প্রাণীর দেহের মধ্যেই আল্লাহ বিরাজমান। সে হিসাবেই তারা বলে যত কাল্লা তত আল্লাহ। তারা কুকুরকেও আল্লাহ বলে। (নাউযুবিল্লাহ)।বাউলসম্রাট লালন শাহ মুসলমানদের সুন্নতে খৎনা নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলে, -
"যদি ছুন্নত দিলে হয় মুসলমান,
নারীর তবে কি হয় বিধান?"
কবিতার এই চরণ দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, তাদের মতবাদ নাস্তিক্তাবাদের সাথে মিলে যায়। মুলত তারা যে মুসলিম অনুশাসন মানেনা তা তাদের কবিতার এই চরণ দ্বারা বুঝা যায় -
কালী কৃষ্ণ গড খোদা/কোন নামে নাহি বাধা
মন কালী কৃষ্ণ গড খোদা বলো রে। - (বাউলতত্ত্ব পৃঃ ৫৩-৫৪)।

“প্রেমভাজা”
বাউলদের প্রেমভাজা নামক একটি খাদ্য রয়েছে যা তাদের কাছে অনেক পূন্যের ও সাধনার। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এটি তৈরী করা হয় মেয়েদের হায়েযের রক্ত, পুরুষের বীর্য, প্রস্রাব দিয়ে। এই প্রেমভাজা অনেক আগ্রহভরে তারা প্রাণ করে। কুমারী মেয়েদের হায়েজ অনেক পবিত্র এদের কাছে। এরা মনে করে কুমারীর হায়েজ, মেয়েদের স্তনের দুধের সাথে প্রস্রাব একত্রে মিশিয়ে খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ও সর্বরোগমুক্তি হয়। (আস্তাগফিরুল্লাহ)এই খাদ্য তারা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখে। এই জিনিসগুলো আল্লাহ অপবিত্র ঘোষণা করেছেন।
একজন বাউলের একাধিক সেবাদাসী থাকে। এদের অধিকাংশই কমবয়সী মেয়ে। (বা.বা পৃ ৩৫০, ৩৮২)।
লালন শাহের অনুসারীদের একটি অংশ ১৯৮৬ সালের মার্চ মাসে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে একজন মুসলমান অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বাউল। আমাদের ধর্ম আলাদা। আমরা না-মুসলমান, না-হিন্দু। আমাদের নবী সাঁইজি লালন শাহ। তাঁর গান আমাদের ধর্মীয় শ্লোক। সাঁইজির মাজার আমাদের তীর্থভূমি।।আমাদের গুরুই আমাদের রাসুল। ডক্টর সাহেব [অর্থাৎ উক্ত মুসলিম অধ্যাপক] আমাদের তীর্থভূমিতে ঢুকে আমাদের ধর্মীয় কাজে বাধা দেন। কোরান তেলাওয়াত করেন, ইসলামের কথা বলেনএ সবই আমাদের তীর্থভূমিতে আপত্তিকর। আমরা আলাদা একটি জাতি।
তাদের কালেমাও আলাদা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লালন রাসুলুল্লাহ। (নাউযুবিল্লাহ)। (দ্রঃ সুধীর চক্রবর্তী, ব্রাত্য লোকায়ত লালন, ২য় সংস্করণ, আগস্ট ১৯৯৮ পৃঃ ৪-৯৫)।
অনেকেই আছে লালনভক্ত। তারা লালন বা বাউলদের কে সুফি-দরবেশের দৃষ্টিতে দেখে। এদের কারনেই ইসলামের আজ বারোটা বেজে যাচ্ছে। তারা মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়ে মুসলিম নামধারণ করে সাধারণ মুসলিমদের ধোকা দিয়ে যাচ্ছে।
     __________________________________________________________________________________________________________ 




প্রবন্ধ-বৈষ্ণব তীর্থ-বিথঙ্গল আখড়া দর্শনেঃ নিকুঞ্জ বিহারী গোস্বামী। সিলেট কথাঃ কৃষ্ণ কুমার পাল চৌধুরী। বাংলার মুসলমানদের ইতিহাসঃ আব্বাস আলী খকান, পৃষ্টা-৬৬, ষষ্ঠ প্রকাশ। সিলেট নগর ও বিভাগ পরিক্রমাঃ প্রবন্ধ-শেকড়ের সন্ধানে অভিযাত্রা- হাছন রাজার বাড়িঃ সৈয়দ মস্তফা কামাল।[১]
. . . . . সিলেটের মরমী মানস সৈয়দ মোস্তফা কামাল, প্রাক কথন, পৃষ্ঠা ২২, প্রকাশনায়- মহাকবি সৈয়দ সুলতান সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদ, প্রকাশ কাল ২০০৯
. . বাংলাদেশের লোকসাহিত্য ও লোকঐতিহ্য 'ডঃ আশরাফ সিদ্দিকী', আমাদের মরমীয়া সাহিত্য; পৃষ্ঠা ৩৪, প্রাকাশক - সাঈদ বারী প্রধান নির্বাহী, সুচিপত্র ঢাকা, প্রকাশকাল ২০০৫ ইংরেজী।
লালন শাহঃ বিবেচনা-পূর্ণবিবেচনা-মুনশী আব্দুল মান্নান লালন শাহ বাংলা সাহিত্য ও লালন শাহ, পৃষ্ঠা ১১ , প্রকাশক, আহমেদ কাওসার, বইপত্র, বাংলাবাজার ঢাক। প্রকাশকাল- ফেব্রুয়ারী ২০০৫

৪.০ ৪.১ শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত পূর্বাংশ, প্রথম ভাগ, অষ্টম অধ্যায়, অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি; প্রকাশক: মোস্তফা সেলিম; উৎস প্রকাশন, ২০০৪।
Read more...

প্রথম আকাশে ওড়েন মুসলমান বিজ্ঞানী আব্বাস ইবনে ফিরনাস

0 comments
মানুষ যেদিন থেকে হাঁটতে শেখে ঠিক সেদিন থেকেই তার উড়ে বেড়াবার স্বপ্ন। মানুষের আকাশে উড়া নিয়ে ইতিহাসে অনেক ঘটনা আছে, আছে রূপকথার ছড়াছড়ি । আইকারাসের কথা বলা হয়, যিনি নাকি সূর্যের কাছাকাছি উড়তে থাকেন, কিন্তু তার দেহে লাগানো মোম গলে গিয়ে সেই যে নিম্মমুখে ধাবিত হন, যার পরিণতি নাকি ছিল সলিল সমাধি! ৫ম খ্রীস্টপুর্বের এক চীনা ব্যক্তির কথা ইতিহাসে আছে, যিনি আকাশে ঘুড়ি উড়ানোর সফল প্রয়াস গ্রহন করেছিলেন, কিন্তু মানুষ হিসেবে প্রথম আকাশে উড়ার ইতিহাসসৃষ্টিকারী ব্যক্তি হচ্ছেন স্পেনের কর্ডোভার একজন মুসলমান ব্যক্তি, যার নাম আব্বাস ইবনে ফিরনাস। তিনি ইজন-রান্ড ওন্ডা আল-আন্দালুস ( যা বর্তমানের স্পেনের রোন্ডা) তে জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তিনি বাস করতেন কর্ডোভাতে, যেটি ছিল তৎকালীন মুসলমানদের জ্ঞান চর্চার পীঠস্থান। তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক মহতী ব্যক্তি ছিলেন- একাধারে তিনি ছিলেন আবিষ্কারক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, আরবী কবি।
প্রচলিত উপাখ্যান থেকে জানা যায় ইবনে ফিরনাস ৮৫২ সালে আরমেন ফিরম্যানের চিন্তাধারায় প্রভাবিত হন। আরমেন ফিরম্যান বিজ্ঞানী না হয়েও প্রকৃতিকে নিকট থেকে পর্যবেক্ষণ করে কাঠকে ব্যবহার করে রড আকৃতির আড় দিয়ে উপরে রেশমকাপড় জড়িয়ে একটি উড্ড্য়ন যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এই যন্ত্র নিয়ে আরমেন ফিরম্যান কর্ডোভার মসজিদের মিনারে উঠে যন্ত্রসংযোজিত হয়ে লাফ দেন। তিনি উড়তে পারেননি, নিচে পড়তে থাকেন, কিন্তু সিল্ক বস্ত্রটি ফুলে ফেপে উঠায় তার অবতরনের গতি কমে যায়, ফলে তিনি সামান্য আঘাত প্রাপ্ত হলেও মৃত্যুবরণ করেননি। এটিই সম্ভবত পৃথিবীর প্রথম প্যারাসুট নিয়ে লাফ দেওয়া।
ইবনে ফিরনাস তখন ভিড়ের মধ্যে এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করছিলেন এবং এই ফলাফলে মুগ্ধ হয়েছিলেন। যদিও এই প্রয়াস ছিল অনেকটা স্থুলবুদ্ধিজাত এবং ঠিক নিখাদ বিজ্ঞানসম্মত নয়, কিন্তু এটি ছিল ধারণার একটি রত্ন, যা নিয়ে পরবর্তীতে আরও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই ধারণা থেকেই ইবনে ফিরনাস এর মধ্যে উড্ডয়ণ এর কৌশলটি আরও পোক্ত হতে থাকে। আরমেন ফিরনাসের প্রয়াসের ২৩ বছর পর ৮৭৫ খ্রীস্টাব্দে, ইবনে ফিরনাস প্রকৃতির উপর গভীর অধ্যায়ন করে নিজস্ব ডিজাইনের একটি উড্ডয়ন যন্ত্র আবিষ্কার করেন, তিনি এক জোড়া কাঠ আর রেশম কাপড় নিয়ে সেগুলো সুই সুতা দিয়ে সেলাই করে পাখা তৈরী করেন। পরে তিনি জাবাল আল-আরস পর্বতের শৃঙ্গ থেকে ঝাঁপ দেন এবং বেশ কিছু সময় উড়তে থাকেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ননা মতে তিনি ১০ মিনিট উড়তে পেরেছিলেন। ইবনে ফারনিস উড্ডয়নের কৌশলের দিকেই বেশি মনোযোগ নিবদ্ধ করেন, কিন্তু অবরনের কৌশলের দিকে তার মনোযোগ ছিল না। তিনি পৃথিবীর দিকে অবতরণ করতে থাকলেও গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি এবং প্রবল গতিতে নামতে গিয়ে ভ’পৃষ্ঠের সাথে প্রবলভাবে আঘাত প্রাপ্ত হন। এই ঘটনার পরও ইবনে ফিরনাস আরও ১২ বছর জীবিত ছিলেন। সেই সময়ে তার নকশায় ঠিক কী ভুল হয়েছিল তা সনাক্তকরণে তিনি মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তার নকশায় অবতরণের সময় গতি কমানোর কোন যান্ত্রিক পদ্ধতি সংযুক্ত ছিল না। একটি পাখি লেজ এবং ডানাগুলোকে সমন্বিতভাবে কার্যক্ষম রাখে, ফলে এটি ভূমি স্পর্শ করার আগে আকাশে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে থাকে। ইবনে ফিরনাস উপলব্ধি করলেন যে, তিনি তার উড্ডয়ন যন্ত্রে কোন লেজ রাখেননি।
ইবনে ফিরনাস তার জীবদ্দশায় আর আকাশ ভ্রমন করতে পারেননি। তবে এই ঘটনার কয়েক শতক পর ১৬৩০ – ১৬৩২ সালের দিকে এক অটোম্যান তুর্ক আকাশে উড়ার আরেকটি চেষ্টা নেন এবং বসফরাস এর উপর দিয়ে উড়তে থাকেন।
যাহোক ইবনে ফিরনাস কেবল আকাশে উড়ার স্বপ্নই দেখেননি এবং তা রুপায়নে সচেষ্ট হননি, তিনি ঘূর্ণনক্ষম গ্রহ নিয়ে যান্ত্রিক প্লানেটেরিয়ামও তৈরী করেন। এর বাইরে তিনি যান্ত্রিক বস্তু, সময় যন্ত্র নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। রতœ, স্ফটিক নিয়েও তার কৌতুহল ছিল, বালি গলিয়ে আন্দালুসিয়ার বিশেষ পানীয় গ্লাস তিনি উপহার দেন। গ্লাস থেকে ম্যাগনিয়াইং গ্লাস ও লেন্স নিয়েও তিনি তার পরীক্ষা ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
Working Group for Planetary System Nomenclature (IAU/WGPSN) ১৯৭৬ সালে ইবনে ফিরনাসের অসামান্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ চন্দ্রের একটি ক্রেট বা গর্তের নামকরণ করে ইবনে ফারনেস।
উপসংহারে এই কথা বলা যায়, আধুনিক বিমান যুগে যখন মানুষ দুর থেকে দুরান্তে যাচ্ছ, তখন বলতে হয় ইবনে ফিরনাসের ক্ষুদ্র প্রয়াসের একটি ধারবাহকিতার ফলেই তা সম্ভব হচ্ছে।
সহস্র বছর আগের সেই মহতী মানুষকে আজ উচিত সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করা।
অনুবাদঃ মুহাম্মদ শামীম আখতার
Read more...

নাস্তিক শিক্ষক বনাম আস্তিক ছাত্র

0 comments
নাস্তিক প্রফেসর ক্লাসে ঢুকেই তার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, "পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কি সৃষ্টিকর্তা তৈরি করেছেন?"
একজন ছাত্র বেশ আত্নবিশ্বাসের সাথেই উত্তর দিলো, জ্বী স্যার। সবকিছুই সৃষ্টিকর্তা তৈরি করেছেন।
"তাই নাকি! ছাত্র টির উত্তর শুনে মুচকি হাসেন প্রফেসর। সৃষ্টিকর্তা সত্যিই সবকিছু তৈরি করেছেন? তুমি ভেবে বলছো?"
ছাত্রটি আগের মত আত্নবিশ্বাসের সাথে "হ্যা" বোধক উত্তর দিতেই প্রফেসর আবারও প্রশ্ন করেন, "সৃষ্টিকর্তাই যদি সবকিছু তৈরি করে থাকেন তাহলে উনি তো খারাপ কেও সৃষ্টি করেছেন। তোমার উত্তর অনুযায়ী যেহেতু খারাপের অস্তিত্ব আছে এবং আমরা কি সেটা আমাদের কাজের উপর নির্ভর করেই নির্ধারণ হয়, সেই যুক্তি অনুযায়ী তাহলে সৃষ্টিকর্তা নিজেই খারাপ। কারন আমাদের ভাল-মন্দ সব গুণ উনি তৈরি করেছেন।"
প্রফেসরের এমন কথা শুনে সব ছাত্র চুপ হয়ে গেলো। কেউ কিছু বলছেনা।
ছাত্রদের চুপ হয়ে যাওয়া দেখে প্রফেসর নিজের উপর বেশ সন্তুষ্ট হলেন।
কিছুক্ষণ পর আরেকজন ছাত্র উঠে দাড়ালো। প্রফেসর আমুদে ভঙ্গীতে জিজ্ঞাসা করেন, কিছু বলতে চাও? ছাত্র টি হাসি মুখে প্রফেসরের কাছে জানতে চায়, "আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি স্যার?"
অবশ্যই করতে পারো। প্রফেসর অনুমতি দিতেই ছাত্র টি জিজ্ঞাসা করে- "স্যার, ঠান্ডা বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব আছে কি?"???
প্রশ্ন শুনে প্রফেসরের চেহারায় বিরক্তি ফুটে ওঠে। "কি গাধার মত প্রশ্ন করো! ঠান্ডার অস্তিত্ব থাকবেনা কেন? অবশ্যই ঠান্ডার অস্তিত্ব আছে। তোমার কি কখনো ঠান্ডা লাগেনি?"
এবার ছাত্র টি মুচকি হেসে উত্তর দেয়, সত্যি বলতে কি স্যার, ঠান্ডার কোনো অস্তিত্ব নেই। আমরা যেটাকে ঠান্ডা বলি, পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষায় সেটা আসলে তাপের অনুপস্থিতি। আমরা এই "ঠান্ডা' শব্দ টিকে জাস্ট কম তাপ কিংবা তাপের অনুপস্থিতি কে ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যবহার করি।
কিছুক্ষণ পর ছাত্র টি আবারো প্রশ্ন করে, "স্যার অন্ধকার বলে কিছু কি পৃথিবীতে আছে?"
প্রফেসর উত্তর দেন, কেন থাকবেনা! অবশ্যই অন্ধকারের অস্তিত্ব আছে।
ছাত্র টি সহাস্যে উত্তর দেয়, আপনার ধারণা ভুল স্যার। অন্ধকার বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। আমরা আলো কে নিয়ে রিসার্চ করতে পারি, আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ মাপতে পারি, আলোর গতি বের করতে পারি। কিন্তু অন্ধকারের অস্তিত্ব নেই বলেই আমরা অন্ধকার নিয়ে কোনো কিছুই করতে পারিনা। সামান্য একটা আলোক রশ্নি অন্ধকার দূর করতে যথেষ্ঠ, কিন্তু অন্ধকার কখনো আলো কে গ্রাস করতে পারেনা। কারন অন্ধকার বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই, অন্ধকার হচ্ছে আলোর অনুপস্থিতি।
ছাত্র টি আবারও প্রশ্ন করে বসে। "স্যার, এবার বলেন খারাপের কি অস্তিত্ব আছে?"
প্রফেসর বেশ ক্রুদ্ধস্বরে উত্তর দেন, অবশ্যই আছে। প্রতিদিন কত মানুষ খুন হচ্ছে, অন্যায় হচ্ছে, এগুলো খারাপ না?"
ছাত্র টি বেশ জোরের সাথে উত্তর দেয়, "না স্যার। খারাপের কোনো অস্তিত্ব নেই, এটা হচ্ছে ভালোর অনুপস্থিতি। এটা সেই ঠান্ডা এবং অন্ধকারের মতই, মানুষের অন্তরে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালবাসার অনুপস্থিতিই এই খারাপ বা মন্দের অবস্থা তৈরি করে।

<<Collected POST>>
Read more...
 
Copyright © 2012 Sajibs.Com | Developed by SAJIB
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...