আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

ইসলাম বিরোধী ভিডিও প্রদর্শনের কারনে youtube বর্জন করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত !

0 comments
প্রথমেই সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌ তায়ালার যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদত করার জন্য। দরুদ ও সালাম নাযিল হোক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যিনি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট মানব এবং আল্লাহর রসুল (সাঃ)।

সম্প্রতি ইহুদী কাফের কর্তৃক একটি ইসলাম অবমাননাকারী ভিডিও তৈরী ও তা youtube এ প্রদর্শনের কারনে youtube বর্জন করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত।

ইসলাম অবমাননাকর ভিডিও আপলোড করার কারনে সবাই youtube থেকে বের হয়ে যাব কথাটা মনে হয় একটু অযৌক্তিক হয়ে গেলা না !

এই কথার ওপর ভিত্তি করে তো এটাও বলা যায় যে, যেহেতু ভিডিওটি সিডিতে না ছেড়ে ইন্টারনেটে ছাড়া হয়েছে তাই আসুন আমরা সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করা ছেড়ে দেই- এই কথাটা যেমন অযৌক্তিক তেমনি ওপোরের কথাটাও অযৌক্তিক। তাহলে তো এটাও বলা যেতে পারে যে, যে দেশে এই ভিডিও তৈরী করা হয়েছে সে দেশ আমাদের সবার পরিত্যাগ করা উচিৎ- এইসব কথাই অযৌক্তিক।

এই youtube এ শেয়ার করা ভিডিও টিউটোরিয়ালের কারনে আজ আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। যদি youtube কোন user এর ভিডিও শেয়ার করতে না দিত তাহলে আপনাকে সারা জীবন পড়ে পড়েই শিখতে হতো, আর পড়ে শেখার সাথে সাথে দেখে শেখা একটু সহজ। আর এ সহজ করে দিয়েছে youtube.

এই youtube এ কয়টি ইসলাম আবমাননাকর ভিডিও আছে আর কয়টি ইসলাম প্রচারের ভিডিও আছে তা আমরা কয়জন জানি ? আমার মনে হয় খুব কম সংখ্যক মানুষই মনে হয় জানে। কারন তারা youtube এ আসে হয় বিধর্মীদের বানানো অস্লীল গানের ভিডিও দেখতে আর নয়ত বিধর্মীদের বানানো কোন অস্লীল মুভি দেখতে ও বিধর্মীদের চালচলন শিখতে।

ইসলাম কি এই ধরনের ভিডিও দেখা আর তাদের চালচলন ফলো করা যায়েজ করে দিয়েছে ? একদম না। এগুলো দেখা আল্লাহ্‌ সুবহানা তায়ালা হারাম করে দিয়েছেন। এই ক্ষেত্রেতো কেও বললেননা যে, যেহেতু youtube এ হারাম জিনিষ প্রদর্শীত হয় তাই youtube কে বর্জন করা উচিৎ ! অথচ তারা তা না করে সেসব ভিডিও মনোযোগ সহকারে দেখে। আর একটা অবমাননাকর ভিডিও প্রাকাশ হওয়ার পর হৈ চৈ শুরু করে। কিছুদিন এই হৈ চৈ চলে তারপর আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায়, যেমনটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপত্তিকর ছবি প্রকাশের পর Facebook পরিত্যাগের দাবি। যারা এই দাবি করেছিল তারা কিন্তু বাদ দেইনি, তারা ঠিকই আজও Facebook ব্যবহার করে যাচ্ছে।

আপনারা যখন বলেন যে youtube প্রত্যাখান করা উচিৎ, বাংলাদেশ থেকে youtube বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ ঠিক তখন আমার মনে ভয় চলে আসে যে, হায় আল্লাহ্‌! youtube বাংলাদেশ থেকে বন্ধ হয়ে গেলে আমি ইসলামের বিভিন্ন বক্তব্যের অনুষ্টান কিভাবে দেখব! আমি যতটুকু সহীহ ইসলাম শিখেছি তার বেশীর ভাগই শিখেছি ঐ peacetv আর সৌদি আরবে বসবাসরত পৃথিবীর প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে একটি-মদীনা ইউনিভারসিটি থেকে পড়া হাই এডুকেটেড ইসলামী বিশেষজ্ঞদের স্বেচ্ছায় দেওয়া ইসলাম সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য ভিডিও আকারে youtube এ প্রকাশ করার কারনে।

কারন বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামের নামে চলতেছে ভন্ডামী। সঠিক দ্বীন সম্পর্কে জানা একেবারে দূরুহ ব্যপার। এটা শুধু বাংলাদেশে নয় বরং আরও অনেক দেশেই এই সমস্যা একেবারে চরম পর্যায় চলে গেছে।

তার মানে এই নয় যে বাংলাদেশে কোন আলেমেরই সঠিক জ্ঞান নেই। আছে- যেমনঃ শাহ ওয়ালিউল্লাহ, শহীদুল্লাহ খান মাদানী, মোহাম্মাদ সাইফুদ্দিন বিলাল মাদানী এরকম আরও অনেকে। কিন্তু এদেরকে আমরা দেশের কয়টি টিভি চ্যানেলে দেখি আর কতক্ষনই বা দেখি। রমজান মাস ছাড়া সপ্তাহে খুব বেশী হলে তিন দিনে ৩ ঘন্টা। বাকি সময়টাতো নাটক-সিনেমা দিয়েই পারি দেয় এই দেশের চ্যানেল গুলো। এদের কাছে সংযমের মাস শেষ মানে সংযমও শেষ। 

"মহিলাদের হিজাফ পড়া বাধ্যতামুলক" বলে ছোট্ট বিরতীতে গিয়ে হিজাফ ছাড়া টি-শার্ট পড়া মহিলাদের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আবার ফিরে এসে হিজাফের বুলি শোনায়। এই হল এই দেশের টিভি চ্যানেলগুলোর অবস্থা।

নাকোলা বাসিল তো কাফের। আর কাফেরদের কাজই হলো ইসলামের ক্ষতি সাধন করা কিন্তু মুসলমান সেজে ইসলামি কাজের কথা বলে শিরকী আক্বীদা মুসলমানদের  মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কেও কোন কথা বলেনা।

"বাইরের শত্রু অপেক্ষা ঘরের শত্রু বেশী ক্ষতিকর"। অথচ ঘরের শত্রুকে বাদ দিয়ে আগে বাহিরের শত্রুকে তাড়ানো নিয়েই যেন আজ বেশী ব্যস্ত।

আমি বলছিনা যে নাকোলা বাসিলের ইসলাম অবমাননাকর ভিডিও তৈরী করে youtube এ ছাড়ার পর আমরা তাকে সমর্থন করব। আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদ জানাবো। ঠিক সেভাবে যেভাবে প্রতিবাদ জিনিয়েছিলাম Facebook এ ইসলাম অবমাননাকর ছবি প্রকাশের পর।

প্রথমে আমাদের  দেশে এই ভিডিও প্রদর্শন বন্ধ করাতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের দেশের সরকার ইতিমধ্যেই এর কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাথে সাথে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হওয়ার আশংখার কথা youtube কে জানাতে হবে। যেভাবে India তে এই ভিডিও প্রদর্শনী বন্ধ করা হয়েছে।

একজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা সমগ্র মানব জাতিকে হত্যা করার সমান। সুতরাং অরাজকতা সৃষ্টি করে প্রতিবাদ করা উচিৎ হবে বলে আমার মনে হয়না।

কাফেররা তো প্রতি নিয়ত মুসলমান্দের গালি মন্দ করে যাচ্ছে, সব গুলো প্রাকাশ পায়না তাই আমরা জানিনা। আর এটি প্রকাশ পেয়েছে বিধায় আমরা জেনেছি। আর আমি যদিও রেগুলার youtube ব্রাউজ করি তারপরও আমি জানতামই না যে youtube এ এই ভিডিও আপলোড হয়েছে। কারন আমি কখনো youtube এ অ-ইসলামিক চ্যানেলে যাইনি আর সাবস্ক্রাইবও করিনি। বিধায় আমার youtube ড্যাশবোর্ডে এই ধরনের ভিডিও আসেনা।

সুতরাং একটি অবমাননাকর ভিডিও আপলোড হওয়ায় youtube ছেড়ে দেওয়া আর অবমাননাকর ভিডিওটি সিডিতে না ছেড়ে ইন্টারনেটে ছাড়ার কারনে ইন্টারনেট ব্যবহার ছেড়ে দেওয়া দুইটাই অযৌক্তিক।

আমরা তাদের ধিক্কার জানাই যারা ইসলাম ও আল্লাহ্‌র শত্রু, প্রতি নিয়ত আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে এই কাফেরদের ধ্বংশ কামোনা করি।

এটি আমার একটি নিজস্ব মতামত। কারো মনে আঘাত দেওয়ার জন্য এই লেখা নয়।
জানিনা আমার কথাগুলো কতখানি যুক্তিযুক্ত। যদি কোন অযৌক্তিক কথা থাকে তবে অবশ্যই জানাবেন। প্রয়োজনে লেখা মুছে দিতেও দ্বিধা করবোনা।

আল্লাহ আমাদের সঠিক বোঝার তৌফিক দান করুন। আমিন
Read more...

হাদিসের আলোকে পানাহারের আদব ও বিধান

0 comments
আল্লাহর বান্দাদের উপর যতগুলি অনুগ্রহ আছে তার মাঝে অন্যতম প্রধান অনুগ্রহ হল পানাহার। মানুষের শরীর গঠন,বর্দ্ধন ও টিকে থাকার মূল উপাদান হচ্ছে পানাহার। এই নেয়ামতের দাবি হল এর দাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।  আর এ কৃতজ্ঞতা আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর দেয়া বিধান পালন করার মাধ্যমে আদায় করা যেতে পারে।এ নেয়ামতের আরো একটি দাবি হচ্ছে, এর সহায়তায় আল্লাহর নাফরমানি করা যাবে না।

পানাহারের অনেকগুলো আদব ও বিধান রয়েছে, যাকে দুইভাবে ভাগ করা যেতে পারে :

প্রথমত : যে বিষয়গুলোর গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক। যেমন:

১)      খাদ্য এবং পানীয় জাতীয় জিনিসের এহতেরাম করা আর এই বিশ্বাস রাখা যে এগুলি আল্লাহর               নেয়ামত যা আল্লাহ তাআলা তাকে দিয়েছেন।

২)     খাদ্য জাতীয় জিনিসকে অবহেলা-অসম্মান না করা ;ডাস্টবিন ও ময়লা আবর্জনার ভিতরে না ফেলা।

৩)     খাবার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা। বিশুদ্ধ অভিমত হল: খাবার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা ওয়াজিব, কেননা অনেকগুলো সহীহ এবং সুস্পষ্ট হাদীস এ নির্দেশই করে। আর এ নির্দেশের বিপরীত কোন হাদীস নেই। এ মতের বিরুদ্ধে সর্বসম্মত ঐক্যমত্যও সৃষ্টি হয়নি যে, এর প্রকাশ্য অর্থ থেকে বের করে দেবে। আর যে ব্যক্তি পানাহারের সময় বিসমিল্লাহ বলবে না তার পানাহারে শয়তান শরীক হবে।

বিসমিল্লাহ ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ সমূহ :―


বান্দা খাবার পাত্রের যেদিক তার সাথে লাগানো সেদিক থেকে খাবে । উপরে বর্ণিত উমর বিন আবু সালামা রা.-এর হাদীসের কারণে। আর খাবার যদি বিভিন্ন ধরনের হয় তা হলে অন্যদিক -যা তার সাথে লাগোয়া নয়- থেকে খাওয়াতে কোন দোষ নেই।

              আমর বিন আবু সালামা থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন:হে বৎস! বিসমিল্লাহ বল এবং ডান হাত দিয়ে খাও। আর খাবার পাত্রের যে অংশ তোমার সাথে লাগানো সে অংশ থেকে খাও - সহীহ বোখারি

             অর্থাৎ, হুযাইফা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, শয়তান ঐ খাবারকে নিজের জন্য হালাল মনে করে যার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা হয়নি - সহীহ মুসলিম


যদি খাবারের কোন লোকমা পড়ে যায় তবে উঠিয়ে খাবে, যদি ময়লা লাগে ধুয়ে ময়লা মুক্ত করে খাবে। কারণ এটিই সুন্নত এবং এর মাধ্যমেই রাসূলুল্লাহর নির্দেশের অনুসরণ করা হবে।

           রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অর্থাৎ, যদি তোমাদের কারো খাবারের লোকমা পড়ে যায় তবে তার থেকে ময়লা দুর করবে এবং তা খেয়ে ফেলবে, শয়তানের জন্য রেখে দেবে না - সহীহ মুসলিম


খাবারের প্লেট পরিষ্কার করবে, তার ভিতর যা কিছু থাকবে মুছে খাবে।

          জাবের রা. থেকে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙুল এবং বর্তন চেটে খেতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন তোমরা জানো না কোনটায় বরকত রয়েছে - সহীহ মুসলিম

            আনাস রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থকে বর্ণনা করেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন বর্তন পরিষ্কার করে খাই। তিনি বলেন―তোমরা জানো না তোমাদের খাবারের কোন অংশে বরকত রয়েছে। বরকত দ্বারা উদ্দেশ্য হল যার দ্বারা উপকার এবং পুষ্টি লাভ হয় -তিরমিজি


আঙুল ধোয়ার পূর্বে চেটে খাবে।
আলেমগণ বলেন : নির্বোধ-মূর্খ লোকদের আঙুল চেটে খাওয়াকে অপছন্দ করা ও একে অভদ্রতা মনে করাতে কিছু যায় আসে না। তবে হ্যাঁ খাওয়ার মাঝখানে আঙুল চেটে খাওয়া উচিত নয়। কেননা আঙুল আবার ব্যবহার করতে হবে আর আঙুলে লেগে থাকা লালা ও থুতু প্লেটের রয়ে যাওয়া  খাবারের সাথে লাগবে আর এটি এক প্রকার অপছন্দনীয়ই বটে।

     কা’ব বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি তিন আঙুল দিয়ে খাচ্ছেন এবং খাওয়া শেষে আঙুল চেটে খাচ্ছেন - সহীহ মুসলিম

           আবু হুরাইরা রা. থেকে মারফু হাদীসে বর্ণিত, যখন তোমরা কেউ খাবার খাবে তার উচিত আঙুল চেটে খাওয়া কেননা সে জানে না কোন আঙুলে বরকত রয়েছে - সহীহ মুসলিম

       
খাবারের প্রশংসা করা মুস্তাহাব , কেননা এর মাধ্যমে খাবার আয়োজন ও প্রস্ত্তত কারীর  উপর একটা ভাল প্রভাব পড়বে। সাথে সাথে আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো এমন করতেন―

      জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পরিবারের নিকট তরকারী চাইলেন। তারা বললেন, আমাদের কাছে সিরকা ছাড়া আর কিছু নেই। তিনি সিরকা আনতে বললেন এবং তার দ্বারা খেতে লাগলেন। অতঃপর বললেন, সিরকা কতইনা উত্তম তরকারী; সিরকা কতইনা উত্তম তরকারী - সহীহ মুসলিম


পানি পান কারীর জন্য সুন্নত হল:তিন শ্বাসে পান করা। একটু পান করার পর পাত্র মুখ থেকে দুরে সরিয়ে নিয়ে শ্বাস নিবে। অতঃপর দ্বিতীয়বার এরপর একই ভাবে তৃতীয়বার। যেমন আনাস রা.-এর হাদীসে এসেছে―

         রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করার মাঝে তিনবার শ্বাস নিতেন। মুসলিম শরীফের অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলতেন: এইভাবে পান করা অধিক পিপাসা নিবারণকারী অধিক নিরাপদ অধিক তৃপ্তিদায়ক - সহীহ মুসলিম


পানাহারের শেষে আল্লাহর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ স্বরূপ তাঁর প্রশংসা করবে। সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছে অন্তত "আলহামদুলিল্লাহ" বলা।

         রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি খাবারের পর আল্লাহর প্রশংসা করে।অনুরূপ পান করার পর আল্লাহর প্রশংসা করে। আল্লাহ সে বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন।


যখন অনেক লোকের সাথে বসে পান করবে আর পান করার পর কাউকে দিতে চাইবে তাহলে ডান পাশ্বে বসা ব্যক্তিকে  দিবে, সে যদি বয়সে ছোট হয় আর বাম পার্শ্বস্থজন তার থেকে বড়, তবুও। হ্যাঁ; যদি ছোট থেকে অনুমতি নিয়ে বড়কে দেওয়া হয় তাহলে কোন দোষ নেই । আর যদি অনুমতি না দেয় তাহলে তাকেই দিবে কারণ সেই আগে পাওয়ার বেশি অধিকার রাখে।

এর প্রমাণ হল সাহাবী সাহল বিন সা’দ রা.-এর হাদীস :―

       রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু পানীয় আনা হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করলেন। রাসূলের ডান দিকে একটি ছোট ছেলে বসা ছিল এবং বামদিকে বয়স্ক লোক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলেটিকে বললেন―তুমি কি আমাকে তোমার আগে তাদেরকে দেয়ার অনুমতি দিবে ? তখন ছেলেটি বলল, না, কখনও নয়। আল্লাহ শপথ! আমি আমার অংশের উপর আপনি ব্যতীত অন্য কাউকে প্রাধান্য দেব না। বর্ণনাকারী বলেন―রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পানপাত্র) ছেলেটির হাতে দিয়ে দিলেন - সহীহ বোখারি

আর এক হাদিসে আনাস রা. বর্ণনা করেন :―

              এক মজলিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডানে ছিলেন এক বেদুঈন সাহাবী এবং বামে আবু বকর আর উমর ছিলেন তাঁর সোজাসুজি। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান শেষ করলেন উমর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আবু বকরকে দিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডানে বসা উক্ত বেদুঈনকে দিলেন এবং বললেন: (নিয়ম হচ্ছে) আগে ডান অতঃপর ডান। অর্থাৎ প্রথমে ডান পাশের জন পাবে অত:পর তার ডান পাসের জন এবং এভাবেই - সহীহ মুসলিম

              মুসলিম শরিফের এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, ডান দিকের লোক ডান দিকের লোক ডান দিকের লোক। আনাস রা. বলেন : এটিই সুন্নত, এটিই সুন্নত, এটিই সুন্নত - সহীহ বোখারি



দ্বিতীয়ত : যে বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক :


১) পানাহারে অহেতুক খরচ করা, আল্লাহ তাআলা বলেন―

             "খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।" - আল আরাফঃ ৩১


২) প্রয়োজন ছাড়া বাম হাতে খাওয়া হারাম। বেশ কিছু হাদীস এর প্রমাণ হিসাবে পেশ করা যেতে পারে।

     (ক) বাম হাতে খাওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা―যেমন জাবের (রা.)-এর হাদীসে এসেছে―

                তোমরা বাম হাতে খেয়ো না, কেননা শয়তান বাম হাতে খায় - সহীহ মুসলিম

  
     (খ) ডান হাতে খাওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ- যেমন ইবনে উমর রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এসেছে―

             তোমরা কেউ যখন খাবে ডান হাতে খাবে যখন পান করবে ডান হাতে পান করবে, কেননা শয়তান বাম হাতে খায়। বাম হাতে পান করে - সহীহ মুসলিম


এই ধরনের নির্দেশের অর্থ হল বাম হাতে খাওয়া হারাম।

(গ) বাম হাতে খেলে শয়তানের সাথে সাদৃশ্য হয়। যেমন পূর্বের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এবং অমুসলিমদের সাথেও সাদৃশ্য হয়। আর শরীয়তের নির্দেশ মোতাবেক উভয়টিই নিষিদ্ধ ও হারাম।


(ঘ) বাম হাতে খাবার গ্রহন কারী জনৈক ব্যক্তিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বদ দোআ করা এবং এর কারণ বর্ণনা করা যে এটি অহংকার মূলক কাজ।

       সালামা বিন আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে বাম হাতে খাচ্ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ডান হাতে খাও। সে বলল আমি পারব না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আর কখনও পারবেও না। একমাত্র অহংকারই তাকে ডান হাত দিয়ে খাওয়া থেকে বিরত রাখল। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর সে আর কখনো মুখের কাছে হাত উঠাতে পারেনি - সহীহ মুসলিম


৩) দাঁড়িয়ে পানাহার করা মাকরূহ, সুন্নত হল বসে পানাহারকার্য সম্পন্ন করা।

           আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন। কাতাদাহ রা. বলেন : আমরা বললাম তাহলে দাঁড়িয়ে খাওয়ার হুকুম কি ? আনাস বললেন সেটাতো আরো বেশি খারাপ আরো বেশি দূষণীয় - সহীহ মুসলিম


৪) কোন কিছুর উপর হেলান দিয়ে আহার করা মাকরূহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন―

             আমি হেলান দিয়ে আহার করি না।

ইবনে হাজার রহ. বলেন : খাওয়ার জন্য বসার মোস্তাহাব পদ্ধতি হচ্ছে। দুই হাটু গেড়ে ,দুই পায়ের পিঠের উপর বসা। অথবা ডান পা খাড়া করে বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা।


৫) খাওয়ার পাত্রে ফু দেয়া এবং তার ভিতর নি:শ্বাস ফেলা মাকরুহ।

         ইবনে আববাস রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবার পাত্রে ফু দেওয়া বা শ্বাস ফেলতে নিষেধ করেছেন - তিরমিজি

       আবু কাতাদাহ রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণন করছেন:তোমাদের কেউ যেন প্রস্রাব করার সময় পুরুষাঙ্গ ডান হাত দ্বারা স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দ্বারা যেন ইস্তেনজা না করে। অনুরূপ খাবার পাত্রে যেন শ্বাস না ফেলে - সহীহ মুসলিম


৬) খাবারের দোষ বের করা ও বর্ণনা করা  মাকরূহ। বরং আগ্রহ হলে খাবে, মনে না চাইলে দোষ ধরা ব্যতীত বাদ দেবে।

            আবু হুরাইরা রা. বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও কোন খাবারের দোষ বের ও বলাবলি করেননি , মনে চাইলে খেতেন। অপছন্দ হলে রেখে দিতেন - সহীহ বোখারি


প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
লেখক : আখতারুজ্জামান মুহাম্মদ সুলাইমান
Read more...

শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা: সারা বছর রোযার ছোয়াব পাওয়ার একটি সূবর্ণ সূযোগ

0 comments
"আবু আইয়ুব আনসারি রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে অতপর শাওয়ালে ছয়টি রোজা পালন করবে সে যেন যুগভর রোজা রাখল।" -  মুসলিম : ১১৬৪

সাওবান রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রমজানের রোজা দশ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দু’মাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা।

অপর রেওয়ায়েতে আছে, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা শেষ করে ছয় দিন রোজা রাখবে সেটা তার জন্য পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য। (যে সৎকাজ নিয়ে এসেছে, তার জন্য হবে তার দশ গুণ। সূরা আন‘আম) আহমদ : ৫/২৮০, দারেমি : ১৭৫৫



হাদিস থেকে যা শিখলাম:

এক. শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত জানা গেল যে, যে ব্যক্তি পুরো রমজান সিয়াম পালনের পর এ রোজা ছয়টি করবে সে যেন সারা জীবন রোজা করল। এ এক বিরাট আমল এবং বিশাল অর্জন।

দুই. বান্দার ওপর আল্লাহর কত দয়া যে তিনি অল্প আমলের বিনিময়ে অধিক বদলা দিবেন।

তিন. কল্যণকাজে প্রতিযোগিতা স্বরূপ এ ছয় রোজার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা মুস্তাহাব। যাতে রোজাগুলো ছুটে না যায়। কোনো ব্যস্ততাই যেন পুণ্য আহরণের এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে না পারে।

চার. এ রোজা করা যাবে মাসের শুরু-শেষ-মাঝামাঝি সব সময়। ধারাবাহিক ও অধারাবাহিক যেভাবেই করা হোক না কেন রোজাদার অবশ্যই এর সওয়াবের অধিকারী হবে যদি আল্লাহর কাছে কবুল হয়।

পাঁচ. যার ওপর রমজানের রোজা কাজা আছে সে আগে তার কাজা করবে তারপর শাওয়ালের রোজায় ব্রতী হবে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে রমজানের রোজা রাখবে অর্থাৎ পুরোপুরি। আর যার ওপর কাজা রয়ে গেছে সে তো রোজা পুরা করেছে বলে গণ্য হবে না যতক্ষণ ওই রোজাগুলোর কাজা আদায় না করে। মুগনি : ৪/৪৪০ তাছাড়া ওয়াজিব আদায়ের দায়িত্ব পালন নফল আদায়ের চেয়ে অধিক গুরুত্ব রাখে।

ছয়. মহান শরিয়ত প্রণেতা ফরজের আগে-পরে নফল প্রবর্তন করেছেন যেমনঃ ফরজ সালাতের আগে-পরের সুন্নতগুলো এবং রমজানের আগে শাবানের রোজা আর পরে শাওয়ালের রোজা।

সাত. এই নফলসমূহ ফরজের ত্রুটিগুলোর ক্ষতি পূরণ করে। কারণ রোজাদার অনর্থক বাক্যালাপ, কুদৃষ্টি প্রভৃতি কাজ থেকে সম্পূর্ণ বাঁচতে পারে না যা তার রোজার পুণ্যকে কমিয়ে দেয়।


প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না।
লেখক : আলী হাসান তাইয়েব
Read more...
 
Copyright © 2012 Sajibs.Com | Developed by SAJIB
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...